বাগেরহাট সংবাদদাতা : মোংলা ইপিজেডে একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ১৫৪ জন শ্রমিককে পূর্ব ঘোষিত নোটিশ ছাড়া চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৪ মে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ইপিজেড গেটে বিক্ষোভ করেছে চাকরীচুত্য বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, মোংলা ইপিজেডে ‘গোনাজুহাত ফাং সাইন্স এ্যান্ড টেকনোলজি বিডি কোম্পানি লিমিটেড’ নামের চীনা এ প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয় গত বছর নভেম্বরে। তখন থেকে কম মূল্য বেতনে ৩ শতাধিক শ্রমিক নিয়োগ করা হয় প্রতিষ্ঠানটির সুতা উৎপাদনের কাজে। আর চাকুরিতে যোগদানের ৬ মাস পর তাদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলে দীর্ঘদিন থেকে কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা করে আসছিল। করোনার লকডাউন ঘোষনার আগে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দফায় দেড় শতাধিক শ্রমিককে নানা কারণ দেখিয়ে ছাটাই করে। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের স্থায়ীকরন না করে উল্টো হয়রানীসহ সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার বাকি আর ১৫৪ জন শ্রমিককে চাকরিচুত্য করা হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের এমন আচরন ও সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চাকরি স্থায়ীকরন ও পূনঃ নিয়োগের দাবীতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুরে পর্যন্ত ইপিজেড গেট ও রাস্তায় অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করে। এ সময় ইপিজেডের নিরাপত্তা রক্ষীরা ইপিজেড এড়িয়ায় দাড়াতে না দিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যাবস্থাপক তাজেল ইসলাম, এ্যাডমিন সাইমুন ও প্রধান হিসাব রক্ষক হিরোক সরকারসহ কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিলে এ সকল শ্রমিকদের চাকরী স্থায়ীকরণ না করে বরং তাদের পরামর্শে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আমাদের চাকরীচুত্য করেছে। প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের শর্তে ৬ মাস পরে শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্ত ৬ মাস পার হলে তাদের চাকরী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
এ সকল অসহায় শ্রমিকদের আংশিক বেতন ও অব্যহতিপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর রেখে বের করে দেয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে পঙ্গু হয়েছেন কেউ কেউ। তাদেরও এ প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়নি। তবে ৮ কর্মকর্তা রয়েছেন বহাল তবিয়াতে। “স্থায়ীকরন ও বেতন বৃদ্ধি করতে হবে বলে শ্রমিকদের ছাটাই করে নতুন ভাবে ক্যাজুয়েল শ্রমিক নিয়ে উৎপাদন শুরু করার প্রচেষ্টায় কর্তৃপক্ষ” – এমন অভিযোগ শ্রমিকদের।
‘গোনাজুহাও ফাং সাইন্স এ্যান্ড টেকনোলজি বিডি কোম্পানি লিমিটেড’ এর প্রধান হিসাব কর্মকর্তা হিরক সরকার বলেন, আমদানী-রফতানী ও উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের ছাটাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান চালু হলে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে।
এ চায়না কোম্পানির দুই কর্মকর্তা শ্রমিক ছাটাই ও বিক্ষোভের সংবাদ প্রচার ঠেকাতে সংবাদকর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়।